দিনাজপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম করিমুল্লাপুর। এই গ্রামের জমিলা বেগম একটি মুরগির খামার করে। হঠাৎ করে খামারের ৪টি মুরগি মারা গেল। মৃত্যুর পূর্বে তারা চুনের মতো মলত্যাগ করেছিল। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জমিলা বেগমকে দ্রুত রাসায়নিক জৈব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিলেন, যাতে খামারের অন্য মুরগিগুলো নিরাপদ থাকে।
জাকিরের খামারের মুরগিগুলো রাণীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রাণিজসম্পদ কর্মকর্তা তাকে রোগ প্রতিরোধের উপায় বলেন।
রাণীক্ষেত একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত মুরগির মল ও শ্লেষ্মার সাথে ভাইরাস জীবাণু নির্গত হয় এবং বাতাসের সাহায্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
রোগ প্রতিরোধে প্রাণিজসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. রোগাক্রান্ত মুরগিকে আলাদা করে এবং মৃত মুরগিকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।
২. জীবিত মুরগির জন্য স্বাস্থ্যকর বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. সময়মতো মুরগিকে প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।
৪. ৭ দিন ও ২১ দিন বয়সের বাচ্চা মুরগিকে বি.সি.আর.ডি.ভি. প্রতি চোখে ১ ফোঁটা করে দিতে হবে।
৫. দুই মাসের বেশি বয়সের মুরগির রানের মাংসে আর.ডি.ভি. ১ সিসি করে ইনজেকশন দিতে হবে।
৬. এছাড়া পটাশ বা কার্বলিক এসিড গোলা পানি দিনে ৩ বার খামারের অসুস্থ মুরগি এবং সুস্থ মুরগিকে খাওয়াতে হবে।
৭. রোগ যাতে হতে না পারে সে জন্য খামারের মুরগির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে খামারের অভ্যন্তর ও বাইরের পরিবেশ যথাসম্ভব স্বাস্থ্যসম্মত তথা জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
৮. খামারে প্রবেশের ক্ষেত্রে (কর্মচারী, দর্শনার্থী) সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে জীবাণুনাশক দিয়ে পা ধুয়ে খামারে প্রবেশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. পানি ও খাদ্যপাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।
রাণীক্ষেত রোগ প্রতিরোধে প্রাণিজসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?